Women's wing affiliated with Bangladesh Nationalist Party - BNP bnpbd.org ↗

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীমহিলা দল
News

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অনন্তকাল মনে রাখবে দেশের মানুষ

তিন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। 

সরকারের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নিয়ে খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তাঁর কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন বক্তারা। আগামী দিনে বিএনপিকে খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ ধারণ করে চলার পরামর্শও দেন তাঁরা।

খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জীবদ্দশায় বেগম খালেদা জিয়া সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।

এ সময় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৩টার দিকে পূর্বনির্ধারিত এ শোকসভা শুরু হয়। শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। 

সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ।

শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

শুক্রবার বেলা আড়াইটার পর কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। এরপর সভায় একে একে বক্তব্য দেন লেখক ফাহাম আব্দুস সালাম, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দেবাশীষ রায়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক শফিক রেহমান, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ডিপিআইয়ের সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল, সাবেক কূটনীতিক আনোয়ার হাশিম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, লেখক ও গবেষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। এরপর খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণসভা শেষ হয়।

খালেদা জিয়া আত্মত্যাগী ও দেশপ্রেমিক ছিলেন: আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। উনি সৎ ছিলেন, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন, আত্মত্যাগী ছিলেন, দেশপ্রেমিক ছিলেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, বেগম জিয়ার মধ্যে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল। তিনি পরমতসহিষ্ণু ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দি ছিলেন, ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।

আইন উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার একটা অদ্ভুত বিচার হয়েছিল, উদ্ভট বিচার। সেই বিচারে উনি শকড হয়েছিলেন অন্য পক্ষের আইনজীবীর কথা শুনে। উনি অবাক হয়ে বলেছিলেন ‘আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?’ বিস্মিত এবং ব্যথিত হয়ে বলা এই বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন, বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি কাজটা করেছেন।

তিনি বলেন, আমি আইনের ছাত্র হিসেবে বলি- এত জঘন্য একটা বিচার হয়েছে। এটার বিপক্ষে বিবৃতি লিখে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, ফোন করেছি বিভিন্ন মানুষকে, কিন্তু হাইকোর্টে কী করবেন না করবেন, এই ভয়ে চারজনের বেশি রাজি হয় নাই। চারজনের তো বিবৃতি হয় না, এজন্য পত্রিকায় ধরাতে পারি নাই।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজকে স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এজন্যই এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।

খালেদা জিয়া শুনতেন, প্রশ্ন করতেন এবং দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতেন: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

খালেদা জিয়ার প্রধানতম তিনটা বড় গুণ ছিল। তিনি- শুনতেন, তিনি প্রশ্ন করতে জানতেন এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিতেন দেশের স্বার্থ ও বৈশ্বয়িক গুরুত্ব বিবেচনায়। আমি বিশ্বাস করি তাকে জাতি মনে রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শুক্রবার নাগরিক শোকসভার আয়োজন করা হয়। এসময় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতির এই সন্ধিক্ষণে তার (বেগম খালেদা জিয়া) উপস্থিতি, পরামর্শ, দিক নির্দেশনা সম্ভবত সবথেকে বেশি প্রয়োজন ছিল। উনি হয়ত চাইতেন আজকের এই চ্যালেঞ্জগুলো নীতিনিষ্ঠভাবে, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা থেকে যৌথভাবে মোকাবিলা করতে। ওনার জীবন বহুমাত্রিক। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ওনার ২ শাসনামলে ৪ বার নীতিবিষয়ক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার।

একসঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বলেন, ২০০৩ সালে বিদেশি তেল কোম্পানিগুলো বলেছিল- বাংলাদেশ তেলের উপর ভাসছে। খুব দ্রুত তেল আহরণ করে ভারত এবং অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা উচিত। সেইসঙ্গে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলেছিলেন, ৫০ বছরের গ্যাস রেখে আমরা বাকীটা রপ্তানি করতে পারি। তৎকালীন সরকার একটা জাতীয় কমিটি গঠন কর। আমি সদস্য ছিলাম। বৈঠকে আমি ১/২ মিনিট কথা বলার পর খালেদা জিয়া প্রশ্ন করেছিলেন- একসঙ্গে ৫০ বছরের গ্যাস বাংলাদেশে নাই। এটা ক্রমান্বয়ে আবিষ্কার হয়। ক্রমান্বয়ে পাওয়া যায়। তাহলে গ্যাস পাওয়া যাবে কীভাবে? আমি বললাম- গ্যাস উত্তোলন করতে হবে। তিনি বললেন, রপ্তানি করলে আয় কত হবে? আয় বেশি হবে না রেমিট্যান্সের ৩ দিনের সমান। এখানে অন্তর্ঘাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সকলে মিলে একমত হলেন, গ্যাস রপ্তানির সুযোগ নাই। এই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যোগ করেন দেবপ্রিয়।

খালেদা জিয়ার উদারতা দিয়ে জ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়া সম্ভব: মাহফুজ আনাম

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেছেন, ‘আমার সৌভাগ্য যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আমার বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। আমি একজন স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে আমার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।’

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘দেশকে ভালোবেসে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। জেল, গৃহবন্দি এতো কিছুর পরেও উনি যখন ৭ আগস্ট মুক্ত হয়ে ভাষণ দিলেন, সেখানেও তিনি প্রতিশোধের কথা বলেননি। তিনি বলেছিলেন ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয়; ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।’

তিনি বলেন, ‘এই যে উদারতা, সেটা যদি আমরা মনে প্রাণে গ্রহণ করতে পারি তাহলে আমরা জ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়ে তুলতে পারবো।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবার কাছে বলবো খালেদা জিয়ার যে শেষ বাণী —জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহবান। আমরা যেন সবাই এটাকে ধারণ করি।’

খালেদা জিয়া সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন: নূরুল কবীর

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেছেন, খালেদা জিয়া কেবল একটি জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা দলমত–নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় নূরুল কবীর এ কথাগুলো বলেন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ যোগ দেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

নূরুল কবীর বলেন, ‘মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার যে গুণটি আমাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তাঁর রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি প্রকট ছিল। তখন আমি লক্ষ করেছি তিনি নিরন্তর ও বিনা ব্যতিক্রমে একজন রাজনীতিক হিসেবে নিজের ওপর ও তাঁর পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যে আঘাত ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে, সেসবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কখনোই প্রকাশ্যে নিজের বেদনা, ক্ষোভ কিংবা নিন্দাসূচক কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করেননি।’

নিউ এজ সম্পাদক বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিতিবোধ এবং আত্মমর্যাদা রাজনীতিতে অনেক অনুসারী থাকতে পারেন, অনেক মত ও পথদর্শন থাকতে পারে; কিন্তু যিনি যেই রাজনীতির, যেই সংস্কৃতিরই অনুসারী হন না কেন, বিষয়টি আজকের বাংলাদেশের অসহিষ্ণুতার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’

খালেদা জিয়ার জানাজার প্রসঙ্গ তুলে নূরুল কবীর বলেন, সেদিন বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপির এক নেতা লাখ লাখ মানুষকে কথা দিয়েছিলেন যে তাঁদের রাজনীতি খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে পরিচালিত হবে। এ কথা রাখতে বিএনপিকে অনুরোধও করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না : মহিউদ্দিন আহমদ

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা খালেদা জিয়াকে কীভাবে মনে রাখব। আমরা যদি উনার জীবনকে তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথমভাগে তার উত্থান পর্ব, ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। যেখানে তিনি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি বিপর্যস্ত দলকে পুনর্গঠন করেন এবং নেতা হয়ে ওঠেন। দ্বিতীয় পর্বটি হচ্ছে তাঁর সরকার পরিচালনায় ১৯৯১ সাল থেকে দুই মেয়াদে এবং এক মেয়াদে বিরোধী দলীয় নেতা। রাষ্ট্রপরিচালনা করতে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেখানে অনেক ভালো কাজ হয়, তার প্রশংসা হয়। অনেক খারাপ কাজ হয় তার সমালোচনা হয়, এটা নিয়ে সরকার। তারপরে ২০০৭ সাল থেকে দেখি তাঁর আরেকটা পর্ব যেখানে তার লড়াই সংগ্রাম এবং তাঁকে যে ভিকটিমাইজ করা হয় নানানভাবে সে পর্বটা। আমার কাছে মনে হয় তার যে প্রথম দিকের উত্থান পর্ব সেটা সবাই জানেন আপসহীন নেত্রী। এই উপাধি তার ভাগ্যে জুটেছিল প্রথম পর্বে। শেষ পর্ব তার মৃত্যুর পরে প্রমাণিত হলো। তার কথা সবাই স্মরণ রাখবে। দুটা অর্জন আমরা বলতে পারি এটা একটা রেকর্ড। এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের শোকসভায় মহিউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। মহিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরে দ্রুত সময়ে নির্বাহী ক্ষমতা পেয়েছেন। ৮-৯ বছরের মাথায় এটা একটা রেকর্ড। আমি বলবো তার চরিত্রের প্রধান বিষয় আকর্ষণ করে তা হলো এলিগেন্স। তাঁকে সম্মান করতে হয়। এই এলিগেন্স আমাদের রাজনীতির মধ্য নাই।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বলি ক্রিকেট হচ্ছে ভদ্রলোকের খেলা। কিন্তু রাজনীতি কেন ভদ্রলোকের খেলা হবে না? এটা কেন দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাবে ? ২৪ এর ৭ আগস্ট খালেদা জিয়া শেষ বক্তব্যে বলেছিলেন, আমাদের প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমরা চোখের বদলে চোখ নাকের বদলে নাক, জানের বদলে জান এভাবে তো কয়েক দশক পার করছি। এইভাবে তো আমরা সামনে এগোতে পারবো না। আমরা যদি হাততালি পাওয়ার জন্য গালাগালি করি এবং খারাপ রাজনীতির দিকে চলে যাই; সেটা সাময়িক হাততালি হয়তো আমরা পাব। কিন্তু রাজনীতি আমরা আল্টিমেটলি বখাটেদের হাতে ছেড়ে দিচ্ছি।

খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় যা বললেন শফিক রেহমান

যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি ৭ নভেম্বর না যেতেন, তাহলে আরও কিছুদিন সুস্থ থাকতেন। তরুণ সমাজকে অনুরোধ করবো আপনারা জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আগে এই অনুষ্ঠানের বক্তব্যগুলো অনুধাবন করবেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের শোকসভায় শফিক রেহমান এ কথা বলেন। 

শফিক রেহমান আরও বলেন, আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে। এখানে একটা গুলিতে যদি কারো কিছু হয়ে তাহলে ১২ তারিখের নির্বাচন হয়তো পেছাতে হতে পারে। আমরা চাই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। ডক্টর ইউনূস গ্যারান্টি দিচ্ছেন এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত আনন্দময়।

শফিক রেহমান বলেন, যিনি ভোট চাইতে আসবেন, তাকে আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন, চাল ডাল চিনির দাম ঠিক থাকবে তো। তাদের জিজ্ঞাস করবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকবে তো। ব্যাংকে যারা আমানত রাখছেন আমানত ঠিক থাকবে তো।

খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন : মাহমুদুর রহমান

খালেদা জিয়া সংগ্রাম করেছেন গণতন্ত্রের জন্য একথা জানিয়ে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় অনেক মানুষ এসেছিল। তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায়ও বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছে। তবে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মধ্যে একটা পার্থক্য ছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সে সময় ক্ষমতায় ছিলেন আর খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন না। তাই বলবো বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে ছিলেন। খালেদা জিয়া এত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের শোকসভায় মাহমুদুর রহমান এ কথা বলেন।  মাহমুদুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বামীর মত দেশপ্রেম ছিল। খালেদা জিয়া সংগ্রাম করেছেন গণতন্ত্রের জন্য। এমন দ্বিতীয় কাউকে পাবেন না। তিনি কখনো মাথা নত করেননি। খালেদা জিয়া বলে গেছেন- ওদের হাতে গোলামীর জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান আপনি। আপনার এটা গর্বের বিষয়। কিন্তু একটা অসুবিধাও আছে। মানুষ আপনার পিতা জিয়াউর রহমান ও মাতার সাথে আপনাকে তুলনা করবেন।  সন্তান হলেও এটা আপনার জন্য কঠিন কাজ। আমি আল্লাহর কাছে বলবো, শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার পতাকা তারেক রহমানকে বহন করার ক্ষমতা দেন।

বেগম জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্রগুলোর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন: এফএম সিদ্দিক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। উনার চিকিৎসায় অবহেলার সমস্ত প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। ওই সময়ের সরকার কর্তৃক নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর এফএম সিদ্দিক।

শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এফএম সিদ্দিক বলেন, আমি দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ম্যাডাম (খালেদা জিয়ার)-এর চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কিন্তু ফরমালি প্রফেশনাল বডি হিসেবে টিম নিয়ে ২০২১ সালে ২৭শে এপ্রিল দায়িত্ব নেই। আমাদের তত্ত্বাবধায়ন এভারকেয়ার হাসপাতালে কোভিড সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তি হওয়ার পর দেখতে পাই- ম্যাডাম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। তখন সরকার নির্ধারিত যে চিকিৎসক দল উনার চিকিৎসা করছিলেন তারা ম্যাডামকে মিথোট্রেক্সেট নামক একটি ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছিলেন নিয়মিত। ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগে যারা আক্রান্ত থাকেন তাদেরকে মিথোডিক্সেট ট্যাবলেট দিতে হয়। এর পাশাপাশি ওনার ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ছিলো।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যারা এ ট্যাবলেট খান তাদের নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করতে হয়। আমাদের কাছে তথ্য আছে- ম্যাডামের লিভার ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাডামের আল্ট্রাসনোগ্রাফি পর্যন্ত করা হয়নি। অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে উনার আস্থাভাজন চিকিৎসক দিয়ে বেড সাইডে সহজেই করা যেতো। নিদেনপক্ষে এমটিএক্স বন্ধ করে দেয়া ছিল অবশ্য কর্তব্য। দীর্ঘ এক অনেকেই প্রশ্ন করেন ম্যাডামকে কি স্লো পয়োজন করা হয়েছে?

তিনি বলেন, ওই সময় লিভার ফাংশন খারাপ হওয়ার কারণে খালেদা জিয়া বারবার বলেছেন- উনার চিকিৎসায় যেন তার পছন্দের চিকিৎসককে মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কোর্ট তখন জানতে চেয়েছিলেন- তিনি কি সমস্যায় ভুগছেন? কিন্তু বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমান বিএমইউ) চিকিৎসকরা যে রিপোর্ট দিয়েছিল- ঐখানে লিভারের কোনো রোগের কথা উল্লেখই ছিল না। তারা সত্য লুকিয়ে রেখেছিল।

এফএম সিদ্দিক বলেন, এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা, অমার্জনীয় অপরাধ। এটা হত্যার অংশ ছিল কিনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনটি বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন- 

১. সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডে কারা ছিলেন? কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তাকে মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা তাদের ওপর বর্তায় কিনা? 

২. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন? অবহেলা ছিল কিনা? 

৩. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তখন কী কারণে হয়নি, কারা বাধা দিয়েছিল?

তিনি বলেন, উল্লেখ করা দরকার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে ম্যাডামের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএমইউ’র সমস্ত ডকুমেন্ট আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিদেশ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ম্যাডামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে-আশা করি।

খালেদা জিয়ার নীতি অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে: আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান

আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় মাহবুবুর রহমান এ কথা বলেন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘একই সময়ে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁর (খালেদা জিয়া) কিছু উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ফুড ফর এডুকেশন, প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার, মেয়েদের পড়াশোনার সহায়তা অনেক দরিদ্র পরিবারকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছিল। এর ফলে আরও বেশি বেশি মেয়ে স্কুলে যেতে পেরেছে এবং নারীশিক্ষা এগিয়ে গিয়েছে। আজ দেশের নারীর অংশগ্রহণ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, এর পেছনে এই সময়ের এসব উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখে।’

একজন রাষ্ট্রনায়কের মূল্যায়ন কেবল ক্ষমতায় থাকাকালীন কী করেছেন, তা দিয়ে হয় না বলে উল্লেখ করে আইসিসিবির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তিনি (খালেদা জিয়া) কীভাবে সময় কাটিয়েছেন এবং সংকট মোকাবিলা করেছেন, সেটাও ইতিহাস মনে রাখে।…দেশ ও রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

‘বাংলাদেশ ছাড়া আমার কোনো ঘর নেই’—খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এই কথাটা আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের ভবিষ্যৎ এই দেশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশের স্থিতিশীলতা, মানুষের আস্থা যতটা বাড়বে, আমাদের সবার সুযোগ ততটা বাড়বে। ব্যবসায়ী সমাজও এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে নিয়মকানুন শক্ত হবে। বিশ্বাস তৈরি হবে। তরুণ প্রজন্ম সামনে এগিয়ে যাওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবে। বিদেশে জাতীয় সম্পদ পাচারের প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।’

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খালেদা  জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিলেন না। তিনি পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন তিনি পুরো পরিবারকে ভুলে যাননি। পুরো সমাজকে ভুলে যাননি। পুরো সিস্টেমকে ভুলে যাননি। সেখানে একটা নতুন দিগন্ত তিনি তৈরি করেছিলেন।’

Share:

Join the movement for women's rights & democracy

Become a member of Bangladesh Jatiyatabadi Mohila Dal and stand with the women of Bangladesh.